ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবিডি) এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন প্রতিযোগিতা ‘ভিশন অ্যান্ড ভোগ’।
প্রতিযোগিতায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এবং ১৫ থেকে ২৩ বছর বয়সী জিইডি শিক্ষার্থীরা একক বা দলগতভাবে অংশ নেন। লাইভ ফ্যাশন শোতে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা মোট ১৫টি ডিজাইন পরিবেশন করা হয়। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান দিয়ে তৈরি নানা ধরনের দেশীয় ভাবধারার পোশাক প্রদর্শন করেন প্রতিযোগীরা।
পোশাকের পাশাপাশি স্থান পায় প্রতিযোগীদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের ধারণা ও পোশাক তৈরির পেছনের গল্প। ডিজাইন, টেকসই ভাবনা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং গল্প বলার শিল্প সবকিছুকে একসঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ফ্যাশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েট ডিন পরেশ পারমার ও ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস প্রজেক্ট ম্যানেজার রিচার্ড অ্যান্টনি ব্রেম, এক্সপেরিয়েন্স গ্রুপের ব্র্যান্ড ‘আমিরা’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়নব মাকসুদ, ইউসিবিডির প্রভোস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এবং হেলথ কোচ ও ফ্যাশন ডিজাইনার জারিন রশিদ।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, রঙ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের মাধ্যমে এসব উপাদানকে নতুন রূপ দিয়েছেন প্রতিযোগীরা।
ফ্যাশন শো শেষে আয়োজিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিজয়ী সেরা তিন প্রতিযোগীকে যৌথভাবে মোট ৬০ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেরা ১৫ জন প্রতিযোগীকে তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
উদ্যোগটি সম্পর্কে ইউসিবিডির চিফ অপারেটিং অফিসার কিংশুক গুপ্ত বলেন, ‘সৃজনশীলতা কীভাবে টেকসই উপাদান, ঐতিহ্য এবং ব্র্যান্ড ভাবনার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তার একটি অনন্য উদাহরণ ‘ভিশন অ্যান্ড ভোগ’। আমরা চাই তরুণ নির্মাতারা ফ্যাশনকে কেবল আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে না দেখে উদ্ভাবন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করুক।’
ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েট ডিন পরেশ পারমার বলেন, ‘প্রতিযোগীরা যেভাবে পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করে ডিজাইন, নিজস্ব সত্তা এবং গল্প ফুটিয়ে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ ফ্যাশন শিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।’
প্রথম স্থান অর্জনকারী মালিহা নাওয়ার বলেন, ‘ভিশন অ্যান্ড ভোগ’ আমাদের ফ্যাশনকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের ফেলে দেওয়া বস্তুগুলোকে অর্থপূর্ণ ও পরিধানযোগ্য পোশাকে রূপান্তর করা একই সঙ্গে ছিল চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দদায়ক।’
Published In: Khoborer Kagoj